আকর্ষণ হারাচ্ছে কক্সবাজার

0

দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারের তরফ থেকে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কাজের কাজ যে কিছুই হচ্ছে না, এবার কক্সবাজার ভ্রমণে তার প্রমাণই পাওয়া গেল।

বেশ কয়েক বছর পর দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে যা দেখে এলাম তাতে করে রীতিমতো হতাশ হয়েছি।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এক ভাঙাচোরা ও দূষিত কক্সবাজার দেখে ঘরে ফিরেছি! কক্সবাজারের অবস্থা এখন আগের চেয়েও খারাপ। ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাফেরা করা দায়।

তার সঙ্গে আছে ড্রেনের দুর্গন্ধ। সিগাল থেকে শুরু করে লাবনী, শৈবাল, প্রবাল ইত্যাদি হোটেল-মোটেলের সামনে দিয়ে যেসব ড্রেন গেছে তার প্রতিটিই ময়লা-আবর্জনায় ভরা এবং তা দুর্গন্ধময়।

অথচ সেখানে জনসমাগম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। দেশের একশ্রেণীর পর্যটনপিপাসু মানুষ সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব মানুষ পর্যটক হিসেবে বিদেশ যেতে পারেন না, তাদের ভিড়ে কক্সবাজার এখন মুখর হয়ে উঠেছে।

আবার সংখ্যায় কম হলেও সেখানে কিছু বিদেশি পর্যটক এবং দেশের উচ্চবিত্ত মানুষের ভিড়ও বেড়েছে। আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং ধুলাবালিসহ দুর্গন্ধময় পারিপার্শ্বিক অবস্থা।

মাত্র কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র উপকূলের মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন করেছেন।

কিন্তু কক্সবাজারের কলাতলী, লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধার মোড় ইত্যাদি এলাকার রাস্তাঘাট, ফুটপাত, ড্রেনের অবস্থা দেখলে মনে হয় না যে, সেখানে একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ আছে।

অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে টাকা-পয়সা কম খরচ করা হচ্ছে না। ট্যুরিজম বোর্ড সৃষ্টি করাসহ সরকার সেখানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করেছে।

এ অবস্থায় এসব কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের নাকি অবনয়নের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, এখন সে প্রশ্নটিরই উত্তর খোঁজা জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ উন্নয়ন বলতে সেখানে কোনো কিছুই চোখে পড়েনি।

পৌর কর্তৃপক্ষ একটি শিশুপার্ক নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছে দেখা গেলেও আর কোনো কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। বেসরকারি পর্যায়ে এলোমেলোভাবে নির্মিত যেসব হোটেল, মার্কেট এর আগে দেখে এসেছিলাম, এবারে প্রায় পাঁচ বছর পর ঠিক তেমনটিই দেখে এলাম।

আর সেসব হোটেলেরই একটিতে থেকে দেখে এলাম তাদের সেবার মান, খাদ্যের মান সবই নিুগামী হয়েছে। সেই সঙ্গে বয়সের কারণে হোটেল কক্ষ, টয়লেট ইত্যাদিতেও অবনয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের পর্যটনের প্রাণকেন্দ্র কক্সবাজারের উন্নয়ন না ঘটে অবনয়ন ঘটেছে। সমুদ্রতীর ও হোটেলগুলোতে জনসমাগম বাড়লেও সেসব মানুষের জন্য আনুষঙ্গিক কোনো সুবিধা না বাড়ায় সেখানে এক ধরনের নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সাগর পাড়ে ফটোগ্রাফার, হকার, পুলিশের লোকসহ পর্যটকদের অনেকে সমানতালে সিগারেট ফুঁকে চলেছেন। সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকলেই বাতাসে সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পায়ের নিচে তাকালেই বাদাম, চকোলেটের খোসা, পলিথিনসহ বিভিন্ন প্যাকেট, পরিত্যক্ত কলার কাঁদি ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.