শিরোনাম

গজারিয়ায় হাতুড়িপেটায় আহত সেই যুবকের মৃত্যু !!

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আরো একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড!!

0
নিজস্ব প্রতিবেদক (মুন্সীগঞ্জ নিউজ ২৪ ডট নেট) # যে কোন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গজারিয়ার রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠে। একেক প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ঘটে সংঘর্ষ, হামলা মামলা। এবার গজারিয়ায় রাজনীতিতে যুক্ত হলো আরো একটি হত্যাকাণ্ড।
 বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাজিদুল ইসলাম মিম (২২)। সে উপজেলার হোসেন্দী এলাকার ইসমানিরচর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মিয়ার ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক।

এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর চুরি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে নিহতের পিতা আব্দুস সাত্তার।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিহত মিম নাজিরচর এলাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে ইসমানিরচর এলাকার মৃত আ. বাছেদ মোল্লার ছেলে, হোসেন্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম মোল্লা (২৪), মৃত আবুল হোসেন মুফতির ছেলে মো. আতাউর (২৭), আহম্মদ আলীর ছেলে সম্রাট (২২), আহম্মদ ফরাজীর ছেলে তুষার (২০), মৃত আঃ হাকিমের ছেলে সাব্বির (২২), মৃত মহসিনের ছেলে নিজুম (২২), ইসমানিরচর এলাকার মৃত রাসেলের ছেলে অপু (২২), আঃ রহিমের ছেলে মো. আরজু (২০), আঃ লতিফের ছেলে শুভ (২০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন পূর্ব বিরোধের জের ধরে ইসমানির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অ্যাডভান্স প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সামনে নিয়ে লোহাড় হাতুড়ি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেটায়। পরে তাকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা যায় সে।

২০১৪ সকালের উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গজারিয়ায় তিনটি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।
বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ততকালীন চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন প্রধান, ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলম এবং নির্বাচনের দিন গুলিবিদ্ধ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবদলের সভাপতি আ. মান্নান দেওয়ানের স্ত্রী লাকী আক্তার ২৭ মার্চ মারা যান।
২০১৪ সালের ৫ই অক্টোবর বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈইতলা গ্রামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘের্ষ মনসুর আলী প্রধান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
২০১৬ সালের ২৩ মে গজারিয়া হোসেন্দি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে মো. হানিফ (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা মারা গেছেন। নিহত হানিফ একই ইউনিয়নের লষ্করদি গ্রামের নজু মিস্ত্রির ছেলে।
২০১৬ সালের ১৪ জুলাই হোসেন্দী ইউনিয়নের চরবলাকী গ্রামের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে।
একটি সন্তানের মৃত্যুর সাথে সাথে মৃত্যুবরণ করে একটা পরিবারের হাজারো স্বপ্নের। শূন্য হয় মা ও বাবার বুক। পিতা হারানো সন্তানটি বাবা বলে ডাকতে পারবে কোন দিন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ড গুলোর আজও আদালতে বিচারাধীন। নেয় বিচারের দাবিতে আদালতের দারস্থ হতে হতে ক্লান্ত হয়ে পরেছে স্বজনরা।
Print Friendly, PDF & Email

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.