‘#মি টু’ নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের বাঁধন

0
অভিনয়ের জন্য ১১ মাস আগে সর্বশেষ ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান বাঁধন। নাটক বা টেলিছবির শুটিংয়ে এরপর আর অংশ নেননি তিনি। মাঝের সময়টাতে নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করার যুদ্ধে নেমেছিলেন। সিনেমায় অভিনয়ের জন্য নিয়মিত ব্যায়ামাগারে গিয়ে নিজের ওজন কমানো থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। জমকালো এক মহরতের মধ্য দিয়ে বাঁধনকে নায়িকা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে ব্যক্তিগত কারণে সিনেমা থেকে সরে যান তিনি। অভিনয়ে দেখা না গেলেও বিভিন্ন মিডিয়া গ্যাদারিংয়ে তাঁর ঝলমলে উপস্থিতি সবার চোখে পড়ে। গতকাল ২৮ অক্টোবর ছিল বাঁধনের জন্মদিন। সেদিন তাঁর ব্যস্ততা, আগামী দিনগুলোতে অভিনয়ের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ছোটবেলায় জন্মদিন একভাবে পালন করা হতো। এখন জন্মদিনে কেমন লাগে? 

জন্মদিনে সবাই শুভেচ্ছা জানায়, বেশ ভালো লাগে। বুড়ি হয়ে গেছি তো, তাই গিফট পাই না (হাসি)। তবে এবার জন্মদিনটা একটু আলাদা।

কেন?
এত বছর পর আমার উপলব্ধি হয়েছে, নারী হওয়ার চেয়ে মানুষ হয়ে ওঠা জরুরি। এই উপলব্ধি হয়তো আমাদের সমাজ একটা মেয়েকে করতে দেয় না। আমার মনে হয়েছে এত দিন একজন নারী হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি, সেটা ভুল ছিল। উচিত ছিল আগে মানুষ হওয়ার চেষ্টা করা। এটা কিন্তু সমাজ আমাকে শেখাতে পারেনি। সমাজ আমাকে শুধু নারী হতে শিখিয়েছে। এ কারণে আমি নিজে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করছি, সবকিছু চেপে গেছি। আমার সঙ্গে অন্যায় হলেও চুপ ছিলাম। ভেবেছি এসব বললে সমাজ আমাকে খারাপ বলবে। প্রতিবাদ করছি অনেক পরে। চার বছর পরে বলছি, আমার ডিভোর্স হয়েছে। এসবের মুখোমুখি হতে পারিনি শুধু সমাজের কথা ভেবে। ভাবতাম, এই ডিভোর্সের কথা কেউ জানলে ভবিষ্যতে আমার মেয়ের বিয়ে হবে না। একটা সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বলতে হবে। সমাজের সবাইকে হয়তো বদলাতে পারব না, আমি তো আমাকে বদলাতে পারব। আমার বদলটা আমার সন্তানের মধ্যে কোনোভাবে দিতে পারব। যদিও জানি না, সে ভবিষ্যতে কী করবে। কিন্তু আমার জীবনের কিছুটা প্রভাব তার জীবনে থাকবেই। চেষ্টা করব আমার মেয়ে যেন একজন নারী নয়, মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।

Print Friendly, PDF & Email

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.