মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে #কাজলী নদী

0

মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েল গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি# মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় দূষণ আর দখলের কবলে মরতে বসেছে কাজলী নদীটি। দখলকারীদের রাক্ষুসে থাবা থামানো না গেলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এক সময়ের খরস্রোতা এ কাজলী নদীটি, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা যায়, গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কাজলী নদীটি।
কাজলী নদীর অপর পাশে কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানা। গত ২০২০ সালে দুই উপজেলার সংযোগে মাঝখানে নদীর ওপর তৈরি হয়েছে সেতু। সেতু নির্মাণ শেষে শুরু হয় নদী ও তীর দখলের মহা উৎসব। এরমধ্যে নদী ও তীর দখল করে দেশের খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মান কাজ চলছে। আবার কেউ কেউ নদী ভরাট করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে দখলদারদের বিরুদ্ধে। তাই সাধারণ জনগণের স্বার্থে যে কোন ভাবে এ নদীটি রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে কাজলী নদী ঘুরে দেখা যায়, দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র। নদী ও তীর দখল করে ব্যাপক ভাবে স্থাপনা নির্মান কাজ চলছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য মালামাল বহনকারী অসংখ্য মালবাহী ছোট বড় জাহাজ নদীতে যত্রতত্র নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। দেখে যে কারো মনে হতে পারে নদীটি শিল্প প্রতিষ্ঠানটির ব্যক্তিগত সম্পদ। আর এমন দৃশ্য দেখলেই বোঝা যায় স্বচ্ছ আর সুন্দর পানির জন্য কাজলী নদী কতটা অসহায়। শুধু যে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর অবৈধ জেটি ব্যবহার তা নয়, নদী পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কাজলী নদীর উপর এ উপজেলার হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। কিন্তু জনগুরুত্বপুর্ণ এ নদীটি অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলছেন প্রভাবশালীরা। আবার অনেকেই নদী ভরাট করে আবাসন প্লট তৈরী করে বিক্রিও করছে অনায়াসে। তাই সাধারণ জনগণের স্বার্থে যে কোন ভাবে এ নদীটি রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ভিটিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা কাজলী নদীর পাড়েই কথা হয় ৭০ বছর বয়সী মোতালেব দেওয়ানর সঙ্গে। তিনি বলেন,আগের রূপ নেই এ কাজলী নদী। স্বচ্ছ পানি এখন কালো হয়ে গেছে। আগে নদীতে জেলেদের আনাগোনা থাকলেও এখন তা শূন্য। মাছ তো দূরের কথা, অন্যান্য জলজ প্রাণীরও দেখা মেলে না।

পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা সফিক ঢালী বলেন, অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নদীগুলোকে গ্রাস করছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। এ দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু কাজলী নদীতে নয়; ফুলদী নদীও রয়েছে দূষণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। মাঝে মধ্যে নদী কমিশনসহ নানা সংস্থার লোকজন এসে দেখে যান। তবে দূষণ ঠেকাতে বাস্তবমুখী কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। দিন যতই যাচ্ছে দূষণের মাত্রা ততই বাড়ছে।

এ বিষয়ে ভবেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সাহিদ মো. লিটন বলেন,  নদীর ওপাড় দেশের খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান ফ্রেস, শ্যামলী প্রজেক্টসহ একাধিক কোম্পানি কাজলী নদী ও তীর দখল করে স্থাপনা নির্মান করছে। অপর দিকে নদীর এই পাড় বসুন্ধরা টিস্যু পেপার মিলস, আধুনিক পেপার মিলস সহ বেশকিছু কোম্পানির বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি নদীতে ফেলছে। একদিকে নদীটি সরু হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে  মাছ শূণ্য হয়ে পরছে। এতে বেকার হয়ে পরছে এ ইউনিয়নের হাজারো জেলে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসকের সু দৃষ্টি কামনা করে নদী দখলকারী ও নদী দূষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষে নেয়ার জোড় দাবি জানা

 

Print Friendly, PDF & Email

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.