মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইউ পি সদস্য অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ !!!

জনতা ইউপি সদস্য সেলিম দাইদ কে ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখল !!!

0

নিজস্ব প্রতিবেদক ## মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নে সেলিম দাউদ (৩৫)নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে এলাকাবাসী কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ উত্তেজিত জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে  ইউপি সদস্য সেলিম দাইদকে  অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহ ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়ার আশ্বাস দিলে ভোক্তভোগীরা বাড়ী ফিরে যায়।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়  ইমামপুর ইউনিয়নের ০৮নং  ওয়ার্ড সদস্য সেলিম দাউদ বিভিন্ন সময় সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, সরকারি অনুদানের ঘর পাইয়ে দেওয়ার  নাম করে এলাকাবাসীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাবার পরও কথা অনুযায়ী সে  ইউপি সদস্য সেলিম দাউদ ভুক্তভোগীদের সুবিধা আদায় করে দিতে না পারায় আজ ভুক্তভোগী প্রায় শতাধিক নারীপুরুষ ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে ইউপি সদস্য সেলিম দাউদকে প্রায় ২ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহ ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্তিতি শান্ত ও স্বাভাবিক হয়।

ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম জানান, সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ইউপি সদস্য সেলিম দাউদ তার কাছ থেকে দশ হাজার টাকা আদায় করে। তবে দীর্ঘদিনেও ঘর না পাওয়ায় আজ তিনি টাকা ফেরত পেতে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদে এসেছেন।

আরেক ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী ইলিয়াস হোসেন জানান, প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেবার নাম করে ইউপি সদস্য সেলিম দাউদ তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সে ভাতা পাইনি।

শেফিলী রাণী, মৌমিতা রাণী,খোরশেদা,মাফিয়া বেগম সহ আরো প্রায় বিশ জন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বললে,তারাও একই কথা জানান। সবার কাছ থেকেই বিভিন্ন সরকারি সুবিধাদি পাইয়ে দেবার নাম করে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছে ইউপি সদস্য সেলিম দাউদ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সেলিম দাউদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে।

বিষয়টি সম্পর্কে  ইমামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মসনুর আহমেদ খান জিন্নাহ বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত তবে ভুক্তভোগীরা যাতে যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায় এ ব্যাপারে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাদী জানান, লোক মারফত বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী কেউ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেননি। যদি ভুক্তভোগী কেউ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে তার নিকট আবেদন করেন তবে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ।

 

Print Friendly, PDF & Email

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.