মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হতদরিদ্রের ঘর পাচ্ছে বিত্তবানরা

0

নিউজ ডেস্ক ঃ: আনোয়ারা বেগম বয়স আঁশি ছুইছুই; বাড়ী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামে। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলের সংসারে বোঝা হতে চাননি তাই আলাদা থাকছেন বহুবছর ধরে। প্রথমে খরের চালার ঘর, পরে বাশের তৈরি ঘর সর্বশেষ সারাজীবন ধরে জমানো টাকার সাথে কিছু টাকা ধার এনে টিনের একটা একচালা ঘর বানিয়েছেন। এই ঘরেই জীবনের শেষ নি:স্বাস ত্যাগ করতে চান তিনি। দীর্ঘ দিনের এই সংগ্রামের জীবনে বহু ঝরবৃষ্টি বয়ে গেছে , মাথা গোজার একটা ঠাই করতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি সরকারের দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয় গৃহহীনদের বসত ঘর দিলেও পাননি আনোয়ারা বেগম। অবশ্য তা নিয়ে তার কোন অফসোস নেই কারণ সরকারি ঘর তার ঘরের দরজায় আসবে না এটা আগ থেকেই নাকি জানতেন তিনি।

একই অবস্থা একই গ্রামের মোমেজা বেগমের। দীর্ঘ দিন ধরে ভাইদের সংসারে থাকলেও পারেননি নিজের একটা মাথা গোজার ঠাই তৈরি করতে। তিনিও সরকারি ঘর পাননি।
তবে ঘর পেয়েছেন একই গ্রামের মোতালেব মিয়া। পেশায় গাড়ী চালক মোতালেবের মাসিক উপার্জন প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা। দুটি ভিটি পাকা টিনসেড ঘরসহ তাদের পরিবারের ঘরের সংখ্যা তিনটি। দুই ভাই দুজনই চাকুরি করছেন,মোটামুটি স্বচ্ছলভাব পরিবারে। তিনি কিভাবে সরকারি ঘর পেলেন এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর না দিয়ে চলে যান।

প্রতিবেশী রেজাউল করিম জানান, মোতালেব স্বচ্ছল তাকে ঘর না দিয়ে ঘরটা গৃহহীন কাউকে দিলে সরকারি অর্থের সর্বত্তোম ব্যবহার হতো।
একই অবস্থা পাশের বালুয়াকন্দি ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে ঘর পেয়েছেন করিম নামে একজন। এলাকায় স্বচ্ছল ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত করিম সরকারি অনুদানের ঘর পাওয়ায় অবাক প্রতিবেশীরাও।

সরজমিনে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে বেরিয়ে আসে আরো ভয়াবহ চিত্র। দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাক্তির অর্থনৈতিক অবস্থান নয় ঘর দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। কতিপয় ইউপি সদস্য স্থানীয়দের ঘর পাইয়ে দেবার নাম করে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা। সম্প্রতি উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ড সদস্য সেলিম দাউদ স্থানীয় খাদিজা বেগম নামে এক মহিলার কাছ থেকে ঘর পাইয়ে দেবার নাম করে ১০ হাজার টাকা আদায় করে তবে ঘর দিতে না পারায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে জনতা।
পাশের গজারিয়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য জামিলা বেগম, নাজমা নামে এক মহিলার কাছ থেকে ঘর দেবার নাম করে ৬ হাজার টাকা আদায় করে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের ঘর না পেয়ে ভুক্তভোগী নাজমা বেগম বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তা জানাজানি হয়। শুধু ভবেরচর বা গজারিয়া ইউনিয়ন নয় উপজেলাটির আটটি ইউনিয়নের চিত্র প্রায় একই। ঘর পাইয়ে দেবার নাম করে অভিনব প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েছেন কতিপয় ইউপি সদস্য।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পাঠানো তালিকা অনুসরন করেই তারা ঘরগুলো প্রদান করেছেন। মাঠ পযায়ে ঘর দেবার পূর্বে খোঁজখবর নিতে গিয়ে তারা অনেক অসঙ্গগতি দেখেছেন । কেউ কেউ আবার নিজের ঘর বাড়ীর কথা গোপন করে নিজেদের গৃহহীন দাবী করেছে। বিষয়গুলো তাদের নজরে আসার পর এ ব্যাপারে আরো সতর্ক হয়েছেন তারা। এ পর্যন্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ৫১টি ঘর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.