শিরোনাম

সিনেমার জগতে মেয়েরা অনেক বেশি নিরাপদ

0

দীর্ঘ কয়েক বছর বলিউড থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। মাঝে ক্রিকেট, নতুন সংসার—এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারে সুদূর আমেরিকায় তিনি এক মার্কিন তরুণের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। সানি দেওলের সঙ্গে জুটি বেঁধে আবার পর্দায় ফিরছেন এই বলিউড সুন্দরী। ছবির নাম ভাইয়াজি সুপারহিট। মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে বলিউডের এই দুষ্টু-মিষ্টি নায়িকার মুখোমুখি প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্য। আড্ডায় উঠে এল তাঁর ছবি থেকে ঘরকন্নার কথা। 

প্রশ্ন: প্রথমে জানতে চাই, এই নির্বাসনের কারণ কী? মানে নিজেকে বলিউড থেকে কেন এত দিন দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন?

প্রীতি জিনতা: আমি ক্রিকেট মানে আইপিএল নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। আর এটা মাল্টি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। আর্থিকভাবে এটা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ ছিল। সিনেমার জগতে আমি ভালোই কাজ করছিলাম তা জানি। কিন্তু ক্রিকেটের জগতে পা রাখার কারণ ছিল, সারা জীবন আমি যেন আর্থিক নিরাপত্তা পাই। অভিনেত্রী হিসেবে কাজ না করলেও আর্থিকভাবে আমি যেন সুরক্ষিত থাকি। এ ছাড়া আইপিএল আমার কাছে ছিল সম্পূর্ণ নতুন। তাই আমাকে এই ব্যবসাটার পেছনে সময় দিতে হচ্ছিল। দলের ৪০ জন পুরুষের মাঝে আমি একমাত্র মেয়ে ছিলাম। ক্রিকেটারদের সঙ্গে মেলামেশা নিয়ে তখন মিডিয়া নানাভাবে আমার সমালোচনা করেছে। আমি কোনো কিছুকে পাত্তা দিইনি। আমি ক্রিকেটারদের পাশে নায়িকা হিসেবে নয়, তাঁদের সহযোদ্ধা হিসেবে থাকতাম। আর আমি কাজের জায়গায় কোনো সম্পর্কে জড়াতে পছন্দ করি না। এত দিন চলচ্চিত্র মাধ্যমে থেকে এই জগতের কারও সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। আমি মনে করি কর্মক্ষেত্রে পরস্পরের প্রতি সম্মান থাকা উচিত।

প্রশ্ন: ‘ভাইয়াজি সুপারহিট’ ছবিতে অন্য প্রীতিকে দেখা যাচ্ছে। এই ছবিটি করার কারণ কী?

প্রীতি: আমি তো সিনেমা করা ছেড়েই দিয়েছিলাম। সানি (দেওল) স্যার আমাকে ফোন করে এই ছবির প্রস্তাব দেন। আর উনি ‘না’ বলার কোনো অপশন রাখেননি। ভাইয়াজি সুপারহিট ছবির চিত্রনাট্য শুনে আমার অন্যরকম লেগেছিল। খুবই মজার গল্প। আর আমি আগে কখনো টিপ, সিঁদুর পরে ‘দেশি মেয়ে’র চরিত্রে অভিনয় করিনি। মুসলিম বা পাহাড়ি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার খুব ইচ্ছে ছিল সিঁদুর, টিপ, মঙ্গলসূত্র পরে পর্দায় আসব। কিন্তু আমার কাছে সাধারণত শহুরে বা এনআরআই মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার বেশি প্রস্তাব আসত। সবার বিশ্বাস, আমাকে দেশি চরিত্রে নাকি মানাবে না। দেখি এবার সবার এই ভুল ভাঙে কিনা।

প্রশ্ন: ছবিতে ‘স্বপ্না দুবে’ হয়ে ওঠা আপনার জন্য কতটা কষ্টকর ছিল?

প্রীতি: উত্তর প্রদেশের এক নারী হয়ে ওঠা আমার জন্য খুব সহজ ছিল না। নিজের বডি ল্যাংগুয়েজের দিকে জোর দিয়েছি। সব থেকে বেশি জোর দিয়েছি উচ্চারণে। এখনকার ছবিতে স্থানীয় ভাষার ওপর ভীষণভাবে জোর দেওয়া হয়। দঙ্গল ছবিই তার প্রমাণ। ভারতের যে প্রান্তকে নিয়ে ছবির গল্প বোনা হয়, চরিত্রগুলোও সব দিক থেকে সেখানকার হয়ে ওঠে। তাই আমিও এই দিকটার ভীষণ খেয়াল রেখেছি। আমেরিকা থেকে যখন শুটিং করতে দেশে আসতাম, তখন আসতাম ‘প্রীতি’ হয়ে। আবার দেশ থেকে যখন আমেরিকা ফিরে যেতাম তখন ‘স্বপ্না’ হয়ে। আমেরিকা থেকে ফেরার পর সেটে আমার প্রতিদিনের কাজ ছিল কারও না কারও ওপর কমপক্ষে এক ঘণ্টা চিৎকার করা। কারণ, চরিত্রটা অনেক চড়া। বেশ কিছু দিন আগে আমার বন্ধু পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ আমাকে একটা দেশি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব দেয়। আমি ছবিটা করব বলেও পরে না করে দিই। তবে ছবির জন্য আমি বিশালের সাহায্য নিয়েছি।

প্রশ্ন: আপনার এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আপনি নানা চরিত্রে দর্শকের সামনে এসেছেন। আপনার অভিনীত কোন চরিত্র অনেকটা আপনারই মতো?

প্রীতি: আমার অভিনীত সব চরিত্রের মধ্যে অল্পবিস্তর কোথাও আমাকে খুঁজে পাই। তবে দিল হ্যায় তুমহারা-র ‘শালু’ অনেকটা আমারই মতো। আমার মধ্যে মেয়েলি ব্যাপার অনেকটা কম। বলা যায়, আমি টমবয় টাইপ।

প্রশ্ন: দেওল পরিবারের দুই ভাই সানি ও ববি, এই দুজনের সঙ্গে আপনি কাজ করেছেন। এই দুই ভাইয়ের মধ্যে আপনি কার সঙ্গে বেশি সহজ?

প্রীতি: অবশ্যই ববির সঙ্গে আমি অনেক বেশি সহজ। ও আমার খুব ভালো বন্ধু। ববি হলো ‘ঘর কা খেতি’। সানি স্যার একটু গম্ভীর প্রকৃতির। জানেন, ববি আমার নামটাই বদলে দিয়েছে। ও আমাকে ‘প্রীতম’ বলে ডাকে। উইকিপিডিয়াতেও আমার নাম ‘প্রীতম’ বলে উল্লেখ আছে। আসলে মনে করে আমার মধ্যে ছেলে ছেলে ভাব আছে। তাই ও মনে করে আমার নাম ‘প্রীতি’ না হয়ে ‘প্রীতম’ হওয়া উচিত। এমনকি সালমানও তাই মনে করে। তাই সালমান আমাকে ‘জিন্টা’ বলে ডাকে।

Print Friendly, PDF & Email

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.